Monday, March 2, 2026

Fwd:


---------- Forwarded message ---------
From: Mahin Mahmud <mahin.dnj@gmail.com>
Date: Sun, Mar 1, 2026, 10:49 PM
Subject:
To: Mahin Mahmud <mahin.dnj@gmail.com>


নবাব কোর্ট অব ওয়ার্ডস এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ

প্রথমে জানা দরকার প্রজাবিলি সম্পত্তি কি? জমিদারগণ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের নিকট হতে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের আওতায় যে বিপুল পরিমাণ জমি বন্দোবস্ত নিতেন সেই বিপুল পরিমাণ জমি একা চাষাবাদের মাধ্যমে বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় ভোগ দখল করতে পারতেন না। শুধুমাত্র তার নিজের বসতবাড়ি, বাগানবাড়ি, পুকুর ইত্যাদি নিজ দখলে রেখে বাদবাকি সমুদয় সম্পত্তি জমিদারী দাখিলামূলে বার্ষিক খাজনা আদায়ের বিনিময়ে প্রজাদের নিকট বন্দোবস্ত দিতেন। উক্ত বন্দোবস্তকৃত জমিকে প্রজাবিলি সম্পত্তি বলা হতো। জমিদার প্রজাদের নিকট হতে প্রজাবিলি সম্পত্তির বিপরীতে ধার্যকৃত খাজনা আদায়ের জন্য কাঁচারীঘর তৈরি করে উহাতে একজন বা একাধিক নায়েব নিয়োগ দিয়ে ধার্যকৃত খাজনা আদায় করতেন। যেহেতু জমিদারকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শর্তমতে নির্ধারিত তারিখে ব্রিটিশ সরকারকে খাজনা প্রদান করতে হতো সেহেতু জমিদার কর্তৃক প্রজাদের বরাবরে বন্দোবস্তকৃত জমির বিপরীতে ধার্যকৃত খাজনা আদায়ের জন্য জমিদারের নায়েব ও পাইক পেয়াদাগণ উঠেপড়ে লাগতেন। এমনকি খরা বা অতি বৃষ্টিতে কোন ফসল উৎপাদন না হলেও বা নষ্ট হলেও প্রজাদের খাজনা প্রদানে কোন মাফ ছিল না। জমিদারের কর্মচারীগণ প্রজা কর্তৃক খাজনা প্রদানে অপারগ হলে প্রজাদের থালা-বাসন, গরু-ছাগল বা অন্য দ্রব্যাদি পর্যন্ত ইচ্ছার বিরুদ্ধে খাজনা আদায়ের নামে জমিদারের সেরেস্তায় নিয়ে যেতেন। ঐরূপ অমানবিক একটি ঘটনায় ক্ষুব্ধ, অসন্তুষ্ট হয়ে জনাব শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক সরকারের এস.ডি.ও পদ হতে ইস্তফা দিয়ে প্রজাদের মুক্ত করার জন্য রাজনীতি শুরু করেন। জানা যায় যে, তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর সহিত একত্রিত হয়ে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের জন্য ঘোষণা দেন এবং সেই ঘোষণা মতে সংগ্রাম করতে থাকেন। তাদেরই সংগ্রামের ফসল হচ্ছে ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন। উক্ত আইনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ এবং প্রজাদের যার যার দখলীয় সম্পত্তিতে মালিকানা ঘোষণা। ঐ আইনে জমিদার ও প্রজার স্টেটাস এক করে মালিক হিসেবে গণ্য করা হয়। উক্ত আইনের ২০ ধারাতে জমিদার বা প্রজার সম্পত্তির মালিকানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩৭৫ বিঘা নির্ধারণ করা হয়।
ঐ আইনে জমিদারদের মালিকানাধীন সম্পত্তিকে দু'ভাগে বিভক্ত করা হয়। একটি নিজ বা খাস দখলী অপরটি প্রজাবিলি বা প্রজার নিকট বন্দোবস্ত বা লিজকৃত সম্পত্তি। নিজ বা খাস দখলীয় সম্পত্তি বিষয়ে বলা হয় যে, কোন জমিদার তার নিজ দখলে কোনক্রমেই ৩৭৫ বিঘার বেশি জমি রাখতে পারতেন না। তবে তিনি তার নিজ দখলীয় সমুদয় সম্পত্তির মধ্যে কেন ৩৭৫ বিঘা সম্পত্তি নিজ মালিকানায় রাখবেন তৎবিষয়ে তাকে চয়েজ দেয়ার অধিকার দেয়া হয়। চয়েজ দেয়া ভূমিকে উক্ত আইনে চয়েজ ল্যা- বলা হয়। চয়েজ ল্যা-ের অতিরিক্ত যে জমি থাকে সেই অতিরিক্ত জমি নন রিটেইনেবল খাস ভূমি মর্মে পরিচিত। উক্ত নন রিটেইনেবল খাস ভূমিতে জমিদারী উচ্ছেদ আইনের আওতায় জমিদারের মালিকানা বিলীন হয়ে সরকারের ওপর অর্পিত হয় এবং উহা সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে খাস সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। তাছাড়া জমিদারের খাস দখলে থাকা কিছু কিছু সম্পত্তি যেমন নদী-নালা, হাট-বাজার, কাচারি, পথ-ঘাট ইত্যাদিতে জমিদারের কোন প্রকার চয়েজ বা পছন্দ প্রয়োগের অধিকার ছিল না। উক্ত সম্পত্তিগুলোর মালিকানা উক্ত আইনের আওতায় আপনাআপনি সরকারের ওপর বর্তায় বিধায় উক্ত সম্পত্তিগুলোও সরকারী খাস সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়ে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানে রেকর্ড হয়।
অন্যদিকে জমিদারী উচ্ছেদ বা রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে জমিদারদের অধীনে প্রজাদের দখলে থাকা সম্পত্তির বিষয়ে বলা হয় যে, স্ব-স্ব প্রজাগণের দখলে থাকা সম্পত্তি স্ব-স্ব প্রজাগণ মালিক হিসেবে গণ্য হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, ইতোপূর্বে উল্লিখিত জমিদারের নন রিটেইনেবল খাস ভূমির মালিকানা এবং প্রজাদের নিকট হতে জমিদারের খাজনা পাওয়ার অধিকার সরকার কি প্রকারে নিবেন। উক্ত জমিদারী উচ্ছেদ আইনে বলা আছে যে, সরকার জমিদারের উভয় প্রকার জমির বিপরীতে উক্ত আইনের বিধান মতে জমিদারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করার জন্য ক্ষতিপূরণ তালিকা বা কম্পেনসেশন এসেসমেন্ট রোল সংক্ষেপে সি.এ. রোল প্রস্তুতপূর্বক উক্ত সি.এ. রোলতে ধার্যকৃত টাকা জমিদারকে প্রদান করবেন। উক্ত আইনে আরও বলা আছে যে, সি.এ. রোল মতে, কোন জমিদার ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেন নাই বা তাদের সম্পত্তির বিপরীতে সি.এ. রোল প্রস্তুত হয় নাই মর্মে দাবিতে জমিদারী ব্যবস্থা বহাল রাখতে পারবে না। যদি ইতোপূর্বে উল্লিখিত দুই ধরনের সম্পত্তির বিপরীতে কোন সি.এ. রোল না হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে জমিদার সি.এ রোল প্রস্তুত করার জন্য এবং প্রস্ততকৃত সি.এ. রোল মতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু কোনক্রমেই তাদের দখলে থাকা অতিরিক্ত জমি বা নন রিটেইনেবল খাস ভূমির মালিকানা এবং প্রজাবিলি সম্পত্তিতে খাজনা নেয়ার অধিকার বহাল রাখতে পারবে না। ঢাকা শহর ও আশপাশের জেলাগুলোতে দু'জন জমিদারের নাম মুখে মুখে ছিল। তারা হলেন, নওয়ার স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুর এবং অপরজন ছিলেন ভাওয়াল রাজা কুমার রবীন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী। নওয়াব সলিমুল্লাহ বাহাদুর তার জমিদারী অর্থাৎ প্রজাদের নিকট বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তির খাজনা নেয়ার অধিকার এবং তার নিজ খাস দখলীয় বেশ কিছু সম্পত্তি ১৮৭৯ সালে কোর্ট অব ওয়ার্ডস আইনের আওতায় ১৯০৭ সালের একটি বন্ধকী দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে কোর্ট অব ওয়ার্ডসের উপর ন্যস্ত করেন। কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে অর্পিত হওয়ার পর উহা নবাব কোর্ট অব ওয়ার্ডস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। অন্যদিকে ভাওয়াল রাজার জমিদারী বা প্রজাপত্তনি সম্পত্তি ও তার নিজ খাস দখলীয় সম্পত্তি উভয়ই সরকারের কোর্ট অব ওয়ার্ডসের উপর অর্পণ হয় তাদের অব্যবস্থা, অপারগতা এবং অযোগ্যতার কারণে। ঐরূপ অর্পিত হওয়ার পর উহা ভাওয়াল রাজ কোর্ট অব ওয়ার্ডস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঐরূপে দুইটি বড় বড় জমিদারের প্রজাবিলি সম্পত্তিতে জমিদারের খাজনা নেয়ার অধিকার বা জমিদারী শুধুমাত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ব্যবস্থাপনায় অর্পণ হওয়ার কারণে উহাতে কোর্ট অব ওয়ার্ডসের মালিকানা পূর্ববৎ থেকে যাবে? নাকি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ব্যবস্থাপনায় থাকা অধীনস্থ প্রজারা জমিদারী উচ্ছেদ আইনের বিধান মতে যার যার দখলীয় সম্পত্তিতে মালিক হিসেবে গণ্য হবেন?

১৯৫০ সালের জমিদারী উচ্ছেদ আইনের ৩ ধারাতে প্রথমে কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ব্যবস্থাপনায় থাকা প্রজাবিলি সম্পত্তি প্রজাদের মালিকানা অর্জনের বিষয়ে কোন কিছু উল্লিখিত ছিল না। পরে উক্ত আইনটি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ব্যবস্থাপনায় থাকা প্রজাদের ক্ষেত্রে কার্যকরী করণার্থে উক্ত আইনের ৩ ধারা পার্লামেন্ট কর্তৃক সংশোধনক্রমে ৩(২) ধারা সংযোজন করা হয়। একই সাথে কোর্ট অব ওয়ার্ডস আইনে ৮ ধারার পর ৮(১) ধারা সংযোজন করা হয়। উক্ত সংশোধিত ধারা মতে কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ব্যবস্থাপনায় থাকা জমিদারদের প্রজাবিলি সম্পত্তিতে জমিদারদের জমিদারী বা খাজনা নেয়ার অধিকার সরকার কর্তৃক হুকুম দখল করার ক্ষমতা দেয়া হয়। ্ঐরূপ ক্ষমতা প্রাপ্তিঅন্তে সরকার উক্ত দুটি বড় বড় জমিদারের অধীনস্থ প্রজাদের নিকট হতে খাজনা নেয়ার অধিকার হুকুম দখল করণার্থে প্রথমে প্রজাবিলি সম্পত্তির বর্ণনা দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেন। পরে গেজেটে বর্ণিত প্রজাবিলি সম্পত্তির বিপরীতে জমিদারের খাজনা নেয়ার অধিকার চূড়ান্ত হুকুম দখল করার উদ্দেশ্যে সিএ রোল প্রস্তুতপূর্বক ক্ষতিপূরণ প্রদান করত পুনরায় অপর আর একটি গেজেটে প্রকাশ করেন। ঐ রূপ দুটি গেজেট প্রকাশের প্রেক্ষিতে উক্ত দুটি বড় বড় জমিদারের প্রজাবিলি সম্পত্তিতে মালিকানা চিরতরে বিলীন হয়ে স্ব স্ব প্রজাগণ যার যার দখলীয় সম্পত্তিতে যার যার মতো মালিক হন। সেই মতে সরকারের সার্ভে এ্যান্ড সেটেলমেন্ট অধিদফতর যাহা উএখজঝ অফিস হিসেবে পরিচিত স্ব স্ব প্রজাদের জমিদারদের অধীনে থাকা প্রজাবিলি সম্পত্তিতে মালিক হিসেবে গণ্য করে স্ব স্ব প্রজাদের নামে আলাদা আলাদা এস এ খতিয়ানে মালিক দখলকার হিসেবে উল্লেখে এস.এ খতিয়ান চূড়ান্ত প্রস্তুত ও প্রকাশ করে। উক্ত খতিয়ানগুলোর মন্তব্যের কলামে ২৪(১) ধারা লেখা আছে। জমিদারী উচ্ছেদ আইনের ২৪(১) ধারা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উহাতে জমিদারদের অধীনে থাকা প্রজারা প্রজাইস্বত্বে মালিক হবেন ও থাকবেন মর্মে বর্ণিত আছে।

ইতোপূর্বে বর্ণিত মতে দেখা যায় যে, ঢাকার দুটি বড় জমিদার যথাক্রমে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বাহাদুর এবং কুমার রবীন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর যে সকল প্রজাবিলি বা প্রজাদের নিকট বন্দোবস্ত দেয়া সম্পত্তি ছিল সে সকল সম্পত্তি ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন বা জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ আইনের আওতায় প্রজাগণ মালিক হিসেবে গণ্য হন বিধায় উহাতে তাদের বা তাদের হেফাজতকারী কোর্ট অব ওয়ার্ডসের কোর প্রকার মালিকানা বিদ্যমান ছিল না ও বর্তমানেও নাই। উক্ত দুই জমিদারের খাস দখলীয় সম্পত্তির মধ্যে প্রত্যেকের চয়েজকৃত মাত্র ৩৭৫ বিঘাতে প্রত্যেকে মালিক থাকেন। উক্ত ৩৭৫ বিঘা পরবর্তীতে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ১০০ বিঘা এবং সর্বশেষ ৬০ বিঘাতে সীমাবদ্ধ করা হয়। তাই উক্ত দুই জমিদারের হেজাজতকারী হিসেবে কোর্ট অব ওয়ার্ডস বর্তমানে কোনক্রমেই তাহাদের স্ব স্ব ৬০ বিঘার বেশি খাস দখলীয় জমির মালিকানা ও দখল দাবি করতে পারে না। কিন্তু তৎসত্ত্বেও উক্ত দুটি জমিদারের নামে বিগত সি.এস রেকর্ডের সময় হাজার হাজার বিঘা জমি রেকর্ড হওয়ার ও থাকার সুযোগে এখনও উহাতে তাদের উক্ত রেকর্ডকৃত সম্পতিতে মালিকানা আছে মর্মে অলৌকিক ও ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তীতে প্রজাবিলি সম্পত্তি এবং নন রিটেইনেবল খাস ভূমিতে মালিকানা দাবি করছে। ফলে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন কার্যকরীক্রমে যারা প্রজাইস্বত্বে প্রকৃত মালিক দখলকার হয়েছেন ও আছেন তারা সরকার কর্তৃক অযথা সুদীর্ঘ ৬০ বৎসর পর নানাভাবে ও প্রক্রিয়ায় হয়রানি হচ্ছেন।

আমি ইতোপূর্বে প্রজাইস্বত্বে মালিকদের দুঃখ ও কষ্টে ব্যথিত হয়ে বেশ কয়েকবার জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ বিষয়টি নিয়ে সরকারের আমলাদের বুঝাতে চেষ্টা করেছি এবং প্রজাবিলি সম্পত্তির গেজেট সরবরাহ করে উক্ত গেজেটে থাকা সম্পত্তিতে মালিকানা দাবি না করার পরামর্শ দিয়েছি। এমনকি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের বাসাতে গিয়ে প্রজাবিলি গেজেট সরবরাহ করেছি। এ ছাড়াও আমি তাদেরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক প্রেসিডেন্ট হিসেবে জারিকৃত পি.ও৯০/৭২ উপস্থাপনে বুঝাতে চেষ্টা করেছি যে, উক্ত অধ্যাদেশে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোন সম্পত্তি প্রজাবিলি সম্পত্তি গেজেটেতে প্রজাবিলি সম্পত্তি হিসেবে উল্লিখিত থাকলে সেই সম্পত্তিতে সরকার বা অন্য কেউ কোন প্রকার মালিকানা বা অধিকার দাবি করতে পারে না ও পারবে না।

আমি উপরোক্ত জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ আইন, প্রজাবিলি সম্পত্তির গেজেট ও পি.ও ৯০/৭২ সরবরাহ করেই ক্ষান্ত হই নাই বরং ঐ আইনগুলি পর্যালোচনাপূর্বক আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনস্থ প্রজাগণ কর্তৃক প্রজাইস্বত্বে মালিকানা স্বত্ব অর্জন করার স্বপক্ষে যে সকল রায় দিয়েছেন সেই সকল রায় যাহা ২৭ ডি.এল.আর তে ১০৯ পৃষ্ঠায়, ৩৩ ডি.এল.আরতে যথাক্রমে ১৩ ও ৫২ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে উহা তাদের নিকট উপস্থাপন করে বুঝাতে চেষ্টা করেছি যে, কোর্ট অব ওয়ার্ডসের অধীনে থাকা পূর্বের প্রাজাগণ এখন আর প্রজা নন। তারা উক্ত আইন কার্যকরীক্রমে মালিক হিসেবে গণ্য হয়েছেন এবং সেই কারণে সরকার তাদের মালিকানা স্বীকারে তাদের নামে এস. এ রেকর্ডে মালিক হিসাবে উল্লেখে খাজনা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানেও করছেন। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়, উক্ত মন্ত্রণালয়ের আমলারা এবং কোর্ট অব ওয়ার্ডসের দায়িত্বে থাকা ভূমি সংস্কার বোর্ডের কর্মকর্তাগণ বিষয়টি বুঝেও না বুঝার ভান করে 'চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী' নীতি অবলম্বনে উক্ত প্রজাবিলি গেজেট, জমিদারী উচ্ছেদ আইন ও পিও ৯০/৭২কে অসারে পরিণত করেছেন। এক পর্যায়ে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের আমলাদের এবং মন্ত্রীদের বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে প্রজাই স্বত্বে মালিক রমিছা খানম গং-এর পক্ষে তাদের নিযুক্তীয় আইনজীবী হিসেবে রিট মোকদ্দমা দায়ের করতঃ মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ পর্যন্ত জয়লাভ করেছি। উক্ত বিশেষ আলোচিত রায়টি ১৪ এম,এল,আর-তে ৪০১ পৃষ্ঠায় রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু তথাপি সরকারী আমলারা উহা নজরে না নিয়ে কোর্ট অব ওয়ার্ডসের প্রজাবিলি সম্পত্তিতে এখনও উক্ত দুটি কোর্ট অব ওয়ার্ডসের ব্যবস্থাপনায় থাকা ভূমি সংস্কার বোর্ডের মালিকানা আছে মর্মে ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তীতে উক্ত প্রজাবিলি সম্পত্তি একের পর এক ভূমি সংস্কার বোর্ড কর্তৃক লিজ দিয়ে লিজ গ্রহীতাকে পুলিশী সাহায্য সরবরাহের মাধ্যমে প্রকৃত প্রজাইস্বত্বে এবং এস.এ ও আর.এস রেকর্ডমতে মালিক দখলকারদের উচ্ছেদ অব্যাহত রাখছে। সকল ক্ষতিগ্রস্ত মালিকগণই যে রিট মোকদ্দমা দায়ের করতে পারছেন তা নয়। যারা রিট মোকদ্দমা দায়ের করতে পারছেন না তারা হয় টাকা-পয়সা প্রদানের মাধ্যমে সরকারী আমলাদেরকে সন্তুষ্ট রাখছেনÑ না হয় আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে সরকারকে অভিশাপ দিচ্ছেন। কাজেই এখনও সময় আছে সরকারের গরিব প্রজাদের পক্ষে পক্ষ অবলম্বন করা নতুবা ক্ষতিগ্রস্ত প্রজাইস্বত্বে মালিকদের অভিশাপে ও দীর্ঘনিঃশ্বাসে সরকারের একদিন ভিত নড়ে উঠবে যেমন উঠেছিল ব্রিটিশ সরকারের। আমি আশা করি আমার এ লেখা পড়ে ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড প্রস্তুত ও প্রকাশের সহিত সংযুক্ত কর্মকর্তাগণ এর পর হতে সঠিকপথে পরিচালিত হবেন এবং বিনা কারণে না বুঝে, না জেনে প্রজাইস্বত্বে মালিকদের সম্পত্তিতে এখনও নবাব কোর্ট অব ওয়ার্ডস ও ভাওয়াল কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর মালিকানা রয়েছে মর্মে অলীক দাবিতে ফায়দা লুটবেন না এবং জনগণকে হয়রানি করবেন না বা করার চেষ্টা করবেন না। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ একদিন একত্রিত হয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মতো আন্দোলনে জড়াইলে তখন আপনার সরকারী আমলারা কেন সরকারও পালাতে রাস্তা পাবেন না।

লেখকঃ- মু. খলিলুর রহমান, এ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট।
সংগৃহীতঃ- দৈনিক জনকন্ঠ, 
প্রকাশিতঃ- বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১২, ১৯ আশ্বিন ১৪১৯।

No comments:

Post a Comment

Not to be dramatic but… obsessed

10 Most Expensive Bollywood Wedding Dresses of All Time SARAH Khan With daughter Alyana 21 Best Jackets for Men Over 50 #mensfashion #fash...